কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংতথ্য প্রযুক্তি

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এই আর্টিকেলটিতে আমি চেষ্টা করবো বিস্তারিতভাবে আপনাদেরকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বোঝানোর। শুরুতেই আমরা জানার চেষ্টা করি প্রকৃতপক্ষে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি? কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি সিস্টেম যেটা তথ্য এবং রিসোর্স শেয়ার করার জন্য অনেকগুলি কম্পিউটারকে একত্রে সংযুক্ত করে।

 

একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো দুই বা ততোধিক কম্পিউটার সিস্টেমের একটি সংগ্রহ যেগুলি একটি আরেকটির সাথে সংযুক্ত থাকে। নেটওয়ার্ক কানেকশনটি ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারে আবার ক্যাবল ছাড়াও সংযুক্ত থাকতে পারে। যে কোন নেটওয়ার্ক তৈরিতেই হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার টুলস ব্যাবহৃত হয়।

 

একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বিভিন্ন ধরনের নোড নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। সার্ভার, নেটওয়ার্কিং হার্ডওয়্যার, পারসোনাল কম্পিউটার সবই একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নোড হতে পারে। তাদের শনাক্ত করার জন্য হোস্ট ডিভাইসের নাম এবং আইপি অ্যাড্রেস বা নেটওয়ার্ক ঠিকানা ব্যাবহার করা হয়।

 

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে?

সহজ ভাষায় যদি বলি তাহলে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নোড এবং লিঙ্ক ব্যাবহার করে কাজ করে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এটা বুঝতে গেলে আমাদের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে সেটিও বুঝতে হবে।

 

ডাটা কমিউনিকেশনের সরঞ্জামকেই সহজভাবে নোড বলা হয়। যেমন মডেম, হাব, সুইচ ইত্যাদি। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের লিঙ্কগুলি দুটি নোড কে একত্রে সংযোগ হতে প্রধান ভূমিকা পালন করে করে। আমরা বিভিন্ন ধরনের লিঙ্ক দেখতে পাই যেমন তারের ক্যাবল এবং অপটিক্যাল ফাইবার। 

 

যখন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাজ করে, নোডগুলি তখন লিঙ্কের মাধ্যমে ডাটা প্রেরণ এবং রিসিভ করে থাকে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কিছু প্রোটোকল প্রদান করে যা ডিভাইসগুলিকে নিয়ম প্রোটোকল অনুসরণ করতে সাহায্য করে।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর কাজ কি?

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো কম্পিউটার সাইন্সের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রথমদিকে দেখা যেতো এটা টেলিফোন লাইনে ডাটা ট্রান্সমিশনের জন্য ব্যাবহৃত হতো। এটার ব্যাবহারও অনেক কম ছিলো, কিন্তু বর্তমানে এটি বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হচ্ছে। 

 

বর্তমানে কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলি ডিভাইসগুলিতে আরো ভালো সংযোগ প্রদান করতে সাহায্য করে। আধুনিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কে নিম্নলিখিত কিছু বৈশিষ্ঠ রয়েছে:

 

  • কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ভার্চুয়ালি কাজ করতে সাহায্য করে

  • কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে কাজ করা সম্ভব হয়।

  • যে কোন কন্ডিশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক খুব দ্রুত রেসপন্স করে।

  • ডাটা সিকিউরিটির ক্ষেত্রেও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অনেক সাহায্য করে

 

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এ সম্পর্কে তো এতক্ষন জানলেন। এবার চলুন দেখে নেই একটি নেটওয়ার্কে কখন আমরা ভালো নেটওয়ার্ক বলবো।

একটি ভালো নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট

একটি নেটওয়ার্ক ভালো নেটওয়ার্কের তকমা পেতে হলে তাকে কিছু ক্রাইটেরিয়া মেনে চলতে হবে। যদি ক্রাইটেরিয়াগুলি মিলে যায় তখনি আমরা ভালো নেটওয়ার্ক বলতে পারবো। ক্রাইটেরিয়াগুলি হলো

 

পারফরমেন্স: এটা বিভিন্নভাবে পরিমাপ করা যায় যেমন ডাটা ট্রান্সমিট এর সময় এবং রেসপন্স এর সময়। ট্রান্সমিট সময় বলতে আসলে বোঝায় যে একটি মেসেজ একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যাতায়াতের সময়ের পরিমাপ। 

 

রেসপন্স সময় হলো কোন ডিভাইসে মেসেজ পাঠানোর পর থেকে রেসপন্স করার পূর্বের সময়টা। নেটওয়ার্কের পারফরমেন্স কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমন ব্যাবহারকারির সংখ্যা, কি ধরনের মাধ্যম এবং হার্ডওয়্যার। 

 

রিলায়বিলিটি: সিস্টেমের নির্ভুলতা ছাড়াও এর ব্যর্থতা ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারা পরিমাপ করা হয়। একটি সিস্টেম যখন কোন কারণে ব্যর্থ হয় তখন অবস্থান থেকে পুনরুদ্ধার করতে কত সময় লাগে এবং বিপর্যয়ের সময় সিস্টেমের দৃঢ়তার উপর নির্ভর করেই রিলায়বিলিটি বা গ্রহনযোগ্যতা পরিমাপ করা হয়।

 

সিকিউরিটি: নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে অনুনুমোদিত অ্যাক্সেস থেকে ডাটাকে রক্ষা করা, ক্ষতি এবং ডেভেলপমেন্ট থেকে ডাটা কে রক্ষা করা এবং ডাটা ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য পলিসিগুলি বাস্তবায়ন করা।

 

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর উদ্দেশ্য

একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরির অবশ্যই কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে, যার উপর ভিত্তি করেই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গঠিত হয়েছে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এর এই পর্যায়ে চলুন দেখে আসি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরির কিছু উদ্দেশ্য-

 

  • অনেকগুলি কম্পিউটার বা মেশিন একইসাথে প্রিন্টার, স্ক্যানার, টেপ ড্রাইভগুলিকে নিজেদের মধ্যে শেয়ার করে নিতে পারে।

  • যদি কোন কারণে একটি মেশিন ফেইল হয় তখন অন্য আরেকটি মেশিন তার জায়গা নিতে পারে এবং কাজটি সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

  • দুই বা ততোধিক জায়গায় অবস্থান করে একইসাথে একই ধরনের কজ করতে পারে।

  • দূরের কোন তথ্য অ্যাক্সেস করা, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করা, ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং এবং অনলাইন শপিং করা।

  • অনলাইন গেম এবং বিভিন্ন ধরনের ভিডিও গান বা মুভির মাধ্যমে বিনোদন।

  • ফেসবুক, টুইটার, হোয়াট’স আপ এবং ইনস্ট্রগ্রাম এর মাধ্যমে সামাজিক নেটওয়ার্কিং যেটা বর্তমান সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধরণ

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এ সম্পর্কে ভালোমত বুঝতে গেলে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। এবার আমি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের কিছু ধরণ নিয়ে আলোচনা করবো:

কমিউনিকেশন মিডিয়ামের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

তারযুক্ত নেটওয়ার্ক:  সাধারণত তারের মাধ্যমে সংযুক্ত নেটওয়ার্কেই তারযুক্ত নেটওয়ার্ক বা ওয়্যারড নেটওয়ার্ক বলে। বিভিন্ন ধরনের তার থাকতে পারে যেমনকপার তার, টুয়েস্টেড পেয়ার অথবা অপটিক্যাল ফাইবার। 

 

একটি তারযুক্ত নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলিকে ইন্টানেট বা অন্য নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে যেমন ডেক্সটপ পিসিতে ইন্টারনেট প্রদান করতে তার ব্যাবহার করা হয়। যদিও এখন বিভিন্ন ধরনের ওয়াইফাই অ্যাডাপ্টার পাওয়া যায় যার মাধ্যমে তার ছাড়াও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা যায়। 

 

তারবিহীন নেটওয়ার্ক: তারবিহিীন নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি সিস্টেম যেটা তার ছাড়াই ইকেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ বা ইনফ্রারেড তরঙ্গ দ্বারা গঠিত। এই সিস্টেমে ডিভাইসে অ্যান্টেনা বা সেন্সর উপস্থিত থাকবে। 

 

সেলুলার ফোন, ওয়্যারলেস সেন্সর, টিভি রিমোট, স্যাটেলাইট ডিস রিসিভার, এবং WLAN কার্ডসহ ল্যাপটপগুলি হলো তারবিহীন ডিভাইসের উদাহরণ। ডাটা এবং ভয়েস যোগাযোগের জন্য একটি তারবিহীন নেটওয়ার্ক তারের পরিবর্তে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ ব্যবহার করে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের জন্য তারবিহীন নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

দিনে দিনে তারবিহীন নেটওয়ার্কের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। কেননা বর্তমান সময়ে কেউ আর তারের মাধ্যমে আটকে থাকতে চায়না। বিশেষ করে ল্যাপটপ এবং মোবাইলফোনের উন্নতির কারণে এটার জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে গেছে। ডাটা কমিউনিকেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ডাটা কমিউনিকেশন কি

 

 

এরিয়া কভার এর উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

আম এরিয়া কভার এর উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে কয়েকভাগে ভাগ করা যায়, নিচে এগুলি উল্লেখ করা হলো।

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN):

একটি LAN নেটওয়ার্ক সাধারণত একটি এরিয়ার প্রায় ১০ কিলোমিটারের মত কভার করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটি অফিসের নেটওয়ার্ক বা একটি কলেজের নেটওয়ার্ক সিস্টেম যা এরিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। 

 

এটি সাধারণত প্রতিষ্ঠানের চাহিদার উপর নির্ভর করে যেমন একটি অফিসের নির্দিষ্ট ফ্লোর বা সম্পূর্ণ ভবনে বা পুরো একটি ক্যাম্পাসে এই LAN নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হতে পারে। দুটি পিসি এবং একটি প্রিন্টার এটি হোম অফিসেও হতে পারে বা পুরো একটি কোম্পানি জুড়েও প্রসারিত হতে পারে এবং এর সাথে অডিও এবং ভিডিও ডিভাইসগুলিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। 

 

একটি LAN নেটওয়ার্কের প্রতিটি হোস্টের জন্য একটি শনাক্তকারী থাকে যা একটি LAN হোস্টকে ডিফাইন করে। একটি হোস্ট দ্বারা পাঠানো একটি প্যাকেট সোর্স এবং ডেস্টিনেশন হোস্ট উভয়ের অ্যাড্রেসই বহন করে থাকে।

মেট্রোপলিটান এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN)

MAN নেটওয়ার্ক বলতে এমন একটি নেটওয়ার্ক বোঝায় যা পুরো একটি শহরকেই কভার করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমরা বাসা বাড়িতে টিভি দেখার জন্য যে ডিস লাইন ব্যাবহার করি সেটাও MAN নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN)

WAN নেটওয়ার্ক বলতে এমন একটি নেটওয়ার্ক বোঝায় যা পুরো একটি দেশ বা মহাদেশকে একত্রে সংযুক্ত করে। এটি দুই বা ততোধিক LAN বা MAN এর সমন্বয়ে একটি বৃহৎ ভৌগলিক এলাকা জুরে বিস্তর থাকে।

 

WAN নেটওয়ার্ক সংযোগকারি ডিভাইস যেমন সুইচ, রাউটার এবং মডেম এর মধ্যে আন্তঃসংযোগ প্রদান করে। এটাকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যেমন-

 

পয়েন্ট টু পয়েন্ট: এই সিস্টেমে একটি ট্রান্সমিশন মিডিয়ার মাধ্যমে দুটি সংযোগকারি ডিভাইস যুক্ত থাকে। 

 

সুইচ: এই নেটওয়ার্কিং সিস্টেমে দুইয়ের বেশি সংযোগকারি ডিভাইস সংযুক্ত থাকে।

কমিউনিকেশন এর উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

পয়েন্ট টু পয়েন্ট নেটওয়ার্ক: পয়েন্ট টু পয়েন্ট হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক যা দুটি নেটওয়ার্ক ডিভাইসের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। যদি আমরা একটি উদাহরণ দেখি তাহলে বলা যায়একটি কম্পিউটার এবং একটি প্রিন্টারের মধ্যে যে সরাসরি যে সংযোগ তাকেই মূলত পয়েন্ট টু পয়েন্ট কমিউনিকেশন বলা হয়। 

 

মাল্টিপয়েন্ট: মাল্টিপয়েন্ট বলতে আমরা সেটাকেই বোঝায় যেটার সাথে দুটির বেশি ডিভাইস সংযুক্ত থাকে। একটি মাল্টিপয়েন্টের ক্ষেত্রে চ্যানেলের ক্যাপাসিটি স্থানিক বা অস্থায়ীভাবে শেয়ার করা থাকে। 

 

যদি অনেকগুলি ডিভাইস একইসাথে লিঙ্কটি ব্যাবহার করে তবে এটিকেই একটি স্থানিক সংযোগ বলা হয়ে থাকে। 

 

ব্রডকাস্ট নেটওয়ার্ক: ব্রডকাস্ট নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক যেখানে একটি সিঙ্গেল মেথড থেকে কোন কিছু সম্প্রচার করা হয় এবং অসংখ্য রিসিভার বা গ্রাহক এটি শুনতে বা দেখতে পারে। 

 

উদাহরণ দিলেই আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে আশা করি। রেডিও হতে পারে এটির জন্য একটি পারফেক্ট উদাহরণ। আমরা দেখি যে রেডিও স্টেশন থেকে একজন আরজে কথা বলে বা গান পরিবেশন করে সেটা বাইরের হাজার হাজার বা লক্ষ মানুষ সেটা শুনতে পাচ্ছে। এটি একটি একমুখি নেটওয়ার্ক।

আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

পি-টু-পি নেটওয়ার্ক: একই ক্ষমতা এবং কনফিগারেশন সম্পৃক্ত কম্পিউটারগুলিকে পিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একটি পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের পিয়ার হলো এমন একটি কম্পিউটার সিস্টেম যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। একটি কেন্দ্রিয় সার্ভার ব্যাবহার না করে ফাইলগুলি সরাসরি নেটওয়ার্ক সিস্টেমের সাথে শেয়ার করা যায়। 

 

ক্লাইন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক: যখন একটি কম্পিউটার হয় সে সার্ভার হিসেবে কাজ করে নয়তো সে ক্লাইন্ট হিসেবে কাজ করে কাজের এই সিস্টেমকেই ক্লাইন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক বলে।

 

একটি ক্লাইন্ট প্রথমে সার্ভারের কাছে সার্ভিসের জন্য রিকুয়েস্ট করে তারপরে সার্ভার তার রিকুয়েস্টে সাড়া দিয়ে সার্ভিস প্রদান করে। সার্ভার হলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কম্পিউটার বা প্রসেস যা ফাইল সার্ভার, প্রিন্ট সার্ভার, নেটওয়ার্ক সার্ভার পরিচালনা করে। 


হাইব্রিড নেটওয়ার্ক: হাইব্রিড নেটওয়ার্ক বলতে এমন একটি নেটওয়ার্ক কে বোঝায় যা ক্লাইন্ট-সার্ভার এবং পিয়ার-টু-পিয়ার আর্কিটেকচারের সমন্বয়ে তৈরি। যেমন টরেন্ট।



কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচারের প্রকারভেদ

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে হলে এর আর্কিটেকচার সম্পর্কেও ভালো বুঝতে হবে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার দুই ধরনের যেটা নিচে উল্লেখ করা হলো

ক্লাইন্টসার্ভার আর্কিটেকচার: ক্লাইন্ট সার্ভার আর্কিটেকচার হলো এমন একটি আর্কিটেকচার যেখানে ক্লাইন্ট এবং সার্ভার সংযুক্ত থাকে যেন দুটি ক্লাইন্ট একে অপরের সাথে যোগাযোগ করত পারে এবং উপস্থিত ডিভাইসগুলি নেটওয়ার্কে সার্ভার হিসেবে কাজ করতে পারে। 

 

পিয়ারটুপিয়ার আর্কিটেকচার: পিয়ার টু পিয়ার আর্কিটেকচারে কম্পিউটারগুলি একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং প্রতিটি কম্পিউটার সমানভাবে কাজ করতে সক্ষম কেননা এখানে কোন কেন্দ্রীয় সার্ভার নেই। এখানে উপস্থিত প্রতিটি ডিভাইস নিজেকে ক্লাইন্ট বা সার্ভার ডিভাইস হিসেবে কাজ করতে পারে।

নেটওয়ার্ক টপোলজি

নেটওয়ার্ক টপোলজি হলো একটি নেটওয়ার্কে নোড এবং এর সংযোগগুলির ফিজিক্যাল এবং লজিক্যাল অ্যারেজঞ্জমেন্ট। নোডগুলিতে সাধারণত সুইচ, রাউটার এবং রাউটারের মত বৈশিষ্ট্যসহ ডিভাইসগুলি অন্তর্ভূক্ত থাকে। 

 

নেটওয়ার্ক টপোলজি প্রায়শই একটি গ্রাফ হিসাবে উপস্থাপন করা হয়। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এর এই পর্যায়ে আমি টপোলজিগুলি নিয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করবো।

বাস টপোলজি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বাস টপোলজি

বাস টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ক ডিভাইস একটি সিঙ্গেল তারের সাথে সংযুক্ত থাকে। যে তারের সাথে নোডগুলি সংযুক্ত থাকে তাকে ব্যাকবোন বলা হয়। 

 সুবিধাসমূহ: 

  • ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া খুবই সহজ
  • অন্যান্য টপোলজি যেমন মেস, স্টার, এবং ট্রি এর চেয়ে এখানে কমক্যাবলের প্রয়োজন হয়।

 

অসুবিধাসমূহ:

  • এই সিস্টেমে কোন ক্রূটিগুলি পুনরায় কনফিগার করা কষ্টকর
  • এই টপোলজিতে যদি মেইন তার বা ব্যাকবোন কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে পুরো সিস্টেমটাই অকেজো হয়ে পড়ে।

রিং টপোলজি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে রিং টপোলজি
  • রিং টপোলজি বলতে এমন একটি সিস্টেমকে বুঝায় যেখানে একটি কম্পিউটার অন্যটির সাথে সংযুক্ত থাকে এবং শেষ কম্পিউটারটি পুনরায় প্রথমটির সাথে সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি ডিভাইসের জন্য দুটি প্রতিবেশি ডিভাইস থাকে। কোন একটি সিগন্যাল রিং এর যে কোন একদিক বরাবর পাস করা হয়।

    সূবিধাসমূহ:

    • ডাটা ট্রান্সমিশন তুলনামূলকভাবে অনেকটা সহজ কেননা প্যাকেকগুলি শুধুমাত্র একদিকে চলাচল করে।

    • নোডগুলির মধ্যে যোগাযোগের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কোন কন্ট্রোলারের প্রয়োজন নেই।


    • ইনস্টল করা এবং রিকনফিগারেশন করা অনেকটা সহজ।


    অসুবিধাসমূহ:

    • একটি ইউনিডিরেকশনাল রিং এ একটি ডাটা প্যাকেটকে অবশ্যই সবগুলি নোডের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

    • একটি কম্পিউটার অপর একটি কম্পিউটারের সাথে সংযোগ করতে হলে অবশ্যই সবগুলি কম্পিউটারকে চালু করতে হবে।

স্টার টপোলজি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে স্টার টপোলজি

একটি স্টার টপোলজিতে প্রতিটি ডিভাইস একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলারের সাথে একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট লিঙ্ক থাকে, যা সাধারণত HUB নামে পরিচিত। ডিভাইসগুলির মধ্যে সরাসরি কোন সংযোগ নেই। এই টপোলজিতে ডিভাইসগুলির মধ্যে কোন ট্রাফিক অ্যালাও না। কোন ডাটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কন্ট্রোলার ব্যাবহৃত হয়।

সুবিধাসমূহ:

  • কোন একটি ডিভাইস সংযুক্ত করার সময় বা বিচ্ছিন্ন করার সময় নেটওয়ার্কজনিত কোন বাধা নেই। 

  • এটি সেটাপ এবং কনফিগার করা সহজ।

  • কোন ক্রূটিগুলি সনাক্ত করা এবং বিচ্ছিন্ন করা সহজ।

  • মেশ টপোলজির চেয়ে খরচ তুলনামূলকভাবে কম

 

অসুবিধাসমূহ:

 

  • নোডগুলির সাথে সংযুক্ত হাব, সুইচ যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে পুরো সিস্টেমটাই অকেজো হয়ে পরবে। 

  • যেহেতু হাবগুলির দাম একটু বেশি সেজন্য এটি বাস টপোলজির তুলনায় ব্যায়বহুল।

  • বাস এবং রিং টপোলজির তুলনায় এখানে বেশি পরিমাণ ক্যাবল ব্যাবহৃত হয়।

  • এটি হাবের উপর বেশিমাত্রায় নির্ভরশীল

মেশ টপোলজি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে মেশ টপোলজি

মেশ টপোলজিতে প্রতিটি ডিভাইস প্রতিটিটি ডিভাইসের সাথে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সংযুক্ত থাকে। যেহেতু দুটি ডিভাইসের মধ্যে সরাসরি সংযোগ থাকে তাই যে কোন সময় নিজেদের মধ্যে ডাটা পরিবহন করতে পারে।

সুবিধাসমূহ:

  • একই সময়ে একাধিক ডিভাইস থেকে ডাটা প্রেরণ করা যায়। এই টপোলজি অনেক ট্রাফিক পরিচালনা করতে পারে। 

  • কোন কারণে যদি একটি সংযোগ ব্যর্থ হয়, তবে এর অনেকগুলি ব্যাকআপ রয়েছে যার মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারে। যার ফলে ডাটা ট্রান্সমিশনের কোন প্রভাব পড়েনা|

 

অসুবিধাসমূহ:

  • এখানে তারের ক্যাবলের পরিমান এবং I/O পোর্টের পরিমাণ বেশি থাকে।
    এটি ইনস্টল করা এবং পুনরায় কনফিগার করা কিছুটা কঠিন।

ট্রি টপোলজি

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ট্রি টপোলজি

  • ট্রি টপোলজি কিছুটা স্টার টপোলজির মতোই। ট্রি এর নোডগুলি স্টার টপোলজির মতো একটি কেন্দ্রীয় হাবের সাথে সংযুক্ত থাকে যেটা নেটওয়ার্ক ট্রাফিক পরিচালনা করে। এটির একটি রুট নোড রয়েছে যেটা হায়ার‌্যাকি অনুযায়ী সকল নোডের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটাকে হায়ারার্কিক্যাল টপোলজিও বলা হয়ে থাকে।

    সুবিধাসমূহ:

    • যেকোন সময় নেটওয়ার্ক বর্ধিত করা সম্ভব এবং সহজ।

    • পুরো নেটওয়ার্কে পিস পিস করে বিভাজন করা যায় যার মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে ম্যানেজ মেইনটেইন করা যায়।

    • কোন কারণে একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেলেও অন্য অংশ সম্পূর্ণ ঠিকঠাক থাকে।


    অসুবিধাসমূহ:

    • ট্রি টপোলজি মূলত ক্যাবলের উপর নির্ভর কর, যদি কোন কারনে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায় তবে পুরো নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায়।


    • যখন অত্যাধিক পরিমাণে নোড এবং সেগমেন্ট যোগ করা হয় তখন মেইনটেইন করা কঠিন হয়ে যায়।

নেটওয়ার্কিং ডিভাইস

নেটওয়ার্কে নোডগুলিকে সংযুক্ত করার জন্য হার্ডওয়্যার ইন্টারকানেক্টিং নেটওয়ার্ক যে নোডগুলি যেমন নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC), ব্রিজ, হাব, সুইচ এবং রাউটার এগুলিকেই সাধারণত নেটওয়াকিং ডিভাইস বলা হয়। নিচে নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলি নিয়ে আলোচনা করা হলো:

নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড

নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড কে নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টারও বলা হয়। এটি এমন একটি হার্ডওয়্যার যেটা কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে। প্রতিটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডের একটি স্বতন্ত্র আইডেন্টিফায়ার থাকে। এটি কার্ডের সাথে সংযুক্ত একটি চিপে সংরক্ষণ করা হয়।

 

রিপিটার

রিপিটার হলো একটি ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইস যেটা সিগন্যাল রিসিভ করে, এর থেকে অবাঞ্চিত নয়েজকে ক্লিন করে, পুনরায় এটিকে জেনারেট করে। এটিকে একটি উচ্চ পাওয়ার লেভেলে বা একটি বাধার বিপরীত দিকে পুনরায় ট্রান্সমিট করে।

 

সংকেতকে কোন প্রকার ক্ষতি ছাড়াই আরও বেশি দূরত্বে পাঠানোর ব্যাবস্থা করে। বেশিরভাগ টুয়েস্টেড পেয়ার ইথারনেট নেটওয়ার্কে, কিছু সিস্টেমে ১০০ মিটারের বেশি ক্যাবলের জন্য রিপিটার প্রয়োজন পরে।

 

হাব

হাব হলো একটি সাধারণ সংযোগ পয়েন্ট, যা একটি নেটওয়ার্কে ডিভাইসগুলির সংযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। ডিভাইসটিকে একটি মাল্পিপোর্টো রিপিটার হিসাবেও কল্পনা করা যেতে পারে। একটি হাবের অনেকগুলি পোর্ট থাকে। হাবকে অপেক্ষাকৃত একটি সহজ ব্রডকাস্ট ডিভাইস হিসেবে ধরা যেতে পারে।

 

ব্রিজ

ব্রিজ হলো এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা একটি বড় LAN এর সাথে একাধিক LAN সংযোগ করতে ব্যবহৃত হয়।  ব্রিজ সাধারণত সবগুলি পোর্টে ডাটা সম্প্রচার করে কিন্তু যে ট্রান্সমিশন রিসিভ করেছে তার কাছে নয়।

 

সুইচ

একটি সুইচ একটি হাবের চেয়ে ভিন্ন এই কারণে যে এটি সবগুলি পোর্টের পরিবর্তে  শুধুমাত্র সেই সমস্ত পোর্টগুলিতে ফ্রেমগুলিকে ফরোয়ার্ড করে যা যোগাযোগে অংশ নিচ্ছে। MAC অ্যাড্রেসের উপর ভিত্তি করে সুইচের মাধ্যমে ফ্রেম ফরোওয়ার্ডি এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

রাউটার

রাউটার হলো এমন একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা হেডার এবং ফরওয়ার্ডিং টেবিল ব্যাবহার করে নেটওয়ার্কগুলির মধ্যে ডাটা প্যাকেট ফরওয়ার্ড করার সর্বোত্তম উপায় খুজে বের করে।

 

 

 

এটি দুই বা ততোধিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কে লিঙ্ক করে তাদের মধ্যে ডাটা প্যাকেট এক্সচেঞ্জ করে। একটি রাউটার প্রতিটি প্যাকেটের অ্যাড্রেস তথ্য ব্যাবহার করে দেখতে পারে যে সোর্স এবং ডেস্টিনেশন একই নেটওয়ার্কে আছে কিনা অথবা ডাটা প্যাকেটটি নেটওয়ার্কের মধ্যেই ট্রান্সপোর্ট হবে কিনা।

 

 

গেটওয়ে

গেটওয়ে সাধারণত তথ্য, ডাটা বা অন্যান্য যোগাযোগকে এক প্রোটোকল বা ফরম্যাট থেকে অন্যটিতে রুপান্তর করে। 

 

একটি রাউটার একটি গেটওয়েরও কিছু কাজ সম্পন্ন করতে পারে। একটি ইন্টারনেট গেটওয়ে একটি এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটের মধ্যে যোগাযোগ স্থানান্তর করতে পারে।

 

 

ইন্টারনেট আমাদের জীবনের  অনেক অংশ জুরে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। ইন্টারনেট হলো একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে সরকার, কলেজ, অফিসসহ অন্যান্য সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটারগুলি একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। 

 

 

ইন্টারনেট বিশ্বজুরে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার, মোবাইল, সার্ভার এবং ওয়েবসাইটগুলিকে সংযুক্ত করে। ব্যবহারকারীদের সমস্ত ধরনের ফাইল পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে ক্লাউড সার্ভিসের মত রিসোর্সগুলিকে অ্যাক্সেস সহায়তা করে।

আশা করি উপরের এই আর্টিকেল থেকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি এই সম্পর্কে মোটামুটি ভালো একটি একটা ধারণা পেয়েছেন। 

 

এরপরও যদি কোন কিছু জানার থাকে তবে আমাদের সাথে

যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করবো আপনাকে সাহায্য করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *