কম্পিউটারতথ্য প্রযুক্তি

ক্লাউড কম্পিউটিং কী

ইন্টারনেটের উন্নতির ফলে যে সকল প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে ক্লাউড কম্পিউটিং উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং হলো বহুল ব্যবহৃত অনলাইন প্রযুক্তির মধ্যে একটি। এই আর্টিকেলে আমি চেষ্টা করবো ক্লাউড কম্পিউটিং কী এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলার।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং কী

ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সার্ভিস প্রদান করা। এসব সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে ডাটা স্টোরেজ, সার্ভার, ডাটাবেজ, নেটওয়ার্কিং এবং সফ্টওয়্যারসমূহ। 

 

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার নিজেদের কম্পিউটারে না রেখে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সার্ভারে জমা করে রাখতে পারি। পরবর্তীতে সেখান থেকে আমরা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো অ্যাক্সেস করতে পারি। 

 

অতীতে যদি আমাদের কম্পিউটার সংক্রান্ত কোনো কাজ করা লাগতো তাহলে সেখানে আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটারও কেনা লাগতো। কিন্তু কিছুদিন পর যখন প্রয়োজন শেষ হয়ে যেতো তখন কম্পিউটারগুলি অলস পরে থাকতো। অর্থাৎ আমাদের মোটা অংকের টাকা অপচয় হয়ে যেতো। 

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে আমরা এই সমস্যা দূরভীত করা সম্ভব। ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে আমরা এখন তাৎক্ষণিক সেবা পেতে পারি। এবং এটা প্রাই pay-as-you-go pricing (যতটুকু ব্যবহার ততটুকু খরচ)হিসেবে পেতে পারি। যার মাধ্যমে আমাদের অনেক সাশ্রয় হবে। আমরা নিচে ক্লাউড কম্পিউটিং কী এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো তাহলে আপনার জন্য বোঝা আরো অনেক সহজ হয়ে যাবে।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং কত প্রকার

দিনে দিনে ক্লাউড কম্পিউটিং এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সার্ভিসের ধরনও পরিবর্তীত হচ্ছে তাই এটিকে আমরা বিভিন্নভাবে শ্রেণীবন্ধও করতে পারি। ক্লাউড কম্পিউটিং কত প্রকার ক্লাউড কম্পিউটিংকে মূলত ৬টি ভাগে ভাগ করা যায়। এই ৬টি ভাগকে আবার প্রধান ২টি ভাগে ভাগ করা যায়। এর একটি হলো ক্লাউড বেজড ডিপ্লয়মেন্ট এবং ক্লাউড বেজড সার্ভিস। চলুন তাহলে ক্লাউড কম্পিউটিং কী সম্পর্কে জানতে এর প্রকারগুলো দেখে নেওয়া যাক। 

 

ক্লাউড বেজড ডিপ্লয়মেন্ট কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা:

 

  • পাবলিক ক্লাউড

  • প্রাইভেট ক্লাউড

  • হাইব্রিড কাউড

 

ক্লাউড বেজড সার্ভিসকেও আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা:

  • Infrastructure as a Service (IaaS)-অবকাঠামোগত সেবা

  • Software as a Service (SaaS)-সফটওয়্যার সেবা

  • Platform as a Service (PaaS)-প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক সেবা

 

ক্লাউড বেজড ডিপ্লয়মেন্ট মডেল

পাবলিক ক্লাউড

একটি পাবলিক ক্লাউডে সবকিছু ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্টোর করা হয় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমেই অ্যাক্সেস করা হয়। এই সিস্টেমটি ব্যবহারকারিকে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এবং রিসোর্স এর সঠিক পারমিশন দেয়। 

 

পাবলিক ক্লাউডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এখানে ব্যবহার করার কোনো কিছুরই আপনি মালিক নন, হোক সেটা সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার। এখানকার সকল ধরনের কম্পোন্যান্ট সার্ভিস প্রোভাইডার কর্তৃক পরিচালিত। উদাহরণসরূপ বলা যায় Amazon Web Service এবং Microsoft Azure।

 

প্রাইভেট ক্লাউড

একটি প্রাইভেট ক্লাউড নির্দিষ্ট করে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা তারা স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করতে পারে বা কোনো ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে নিতে পারে। 

 

এই সিস্টেমটি একটি ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে কঠোরভাবে চলে যার মানে হলো যে ঐ নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের ব্যক্তিরাই শুধু সেটি ব্যবহার করতে পারবে। VMware cloud এবং AWS products হলো প্রাইভেট ক্লাউডের উদাহরণ।

 

হাইব্রিড ক্লাউড

এটি ক্লাউড কম্পিউটিং এর একটি আকর্ষণীয় রূপ যেটা পাবলিক এবং প্রাইভেট উভয় ক্লাউডের মতই বৈশিষ্ট ধারণ করে। হাইব্রিড ক্লাউড ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কিছু ডাটা স্থানীয়ভাবে এবং কিছু ডাটা ক্লাউডে রাখতে পারেন। 

 

হাইব্রিড ক্লাউড ব্যবহার করে এমন একটি পরিচিত সংস্থার নাম হলো নাসা। এটি সংবেদনশীল ডাটা স্টোর করার জন্য প্রাইভেট ক্লাউড ব্যবহার করে। এছাড়া যেসব ডাটা বিশ্বব্যাপী জনসাধারণ দেখলে সমস্যা নাই বা তাদের দেখানোর উদ্দেশ্যে স্টোর করতে পাবলিক ক্লাউড ব্যবহার করে।

 

ক্লাউড বেজড সার্ভিস

Infrastructure as a Service (IaaS)-অবকাঠামোগত সেবা

Infrastructure as a Service অথবা IaaS এমন এক ধরনের ক্লাউড কম্পিউটিং যেখানে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সকল ধরনের কার্যক্রম সংগঠিত হয়ে থাকে, যেমন: সার্ভার, স্টোরেজ এবং নেটকওয়ার্ক সার্ভিস। 

 

এই সার্ভিস সিস্টেমে ব্যবহারকারীকে সিস্টেমের অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়না। তার শুধুমাত্র স্টোরেজ, অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলির উপরই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। 

 

এখানে একজন তৃতীয় পক্ষ থাকে যিনি সকল সার্ভিস যেমন হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, সার্ভার এবং স্টোরেজগুলো নিজে হোস্ট করে ব্যবহারকারীদের কাছে শেয়ার করে pay-as-you-go basis এ। অর্থাৎ যতটুকু ব্যবহার ততটুকুই খরচ বহন করতে হয় ব্যবহারকারীকে।

 

Platform as a Service (PaaS)-প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক সেবা

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের এই মডেলে আপনাকে ক্লাউড প্রোভাইডার থেকে একটি প্রি-বিল্ট প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করা হবে। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনি আপনার মত করে নিতে পারবেন। এখানে আপনি আপনার কোড এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলি স্থাপন করতে পারবেন। 

 

আপনাকে শুধুমাত্র কোড এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে ম্যানেজ করতে হবে, অবকাঠামগত কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। PaaS কম্পিউটিং এর একটি উদাহরণ হলো AWS Elastic Beanstalk।

 

Software as a Service (SaaS)-সফটওয়্যার সেবা

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ‍SaaS এমন একটি মডেল যেখানে ব্যবহারকারী একজন ভেন্ডরের কাছ থেকে একটি ক্লাউড বেজড সফটওয়্যারের সাবস্ক্রিপশন নেয় এবং সেই অনুযায়ী সে অ্যাক্সেস পায়। 

 

এই ধরনের ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ব্যবহারকারীদের তাদের নিজস্ব ডিভাইসে অ্যাপ্লিকেশনটি ইনস্টল বা ডাউনলোডের প্রয়োজন হয়না। এটির পরিবর্তে তারা দূরবর্তী ক্লাউড নেটওয়ার্কে অবস্থিত সফটওয়্যারটি সরাসরি ওয়েব বা API এর মাধ্যমে অ্যাক্সেস করতে পারে। 

 

এই মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডার সিস্টেমের সমস্ত হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, মিডেলওয়্যার এবং সিকিউরিটি পরিচালনা করে থাকে। Salesforce হলো ‍SaaS ক্লাউড কম্পিউটিং এর একটি উদাহরণ।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং কিভাবে কাজ করে

ক্লাউড কম্পিউটিং কী এ সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের জানতে হবে ক্লাউড কম্পিউটিং কিভাবে কাজ করে। ক্লাউড কম্পিউটিং এর জন্য তাদের নিজস্ব একটি infrastructure  বা ডাটা সেন্টার রয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলি infrastructure বা ডাটা সেন্টারের মালিকানার পরিবর্তে তাদের প্রয়োজনিয় অ্যাক্সেস ভাড়া নিতে পারে। 

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর একটি বড় সুবিধা হলো কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব আইটি সেক্টরের জন্য খুব বেশি খরচ বহন করতে হয়না। কেননা এখানে আইটির ক্ষেত্রে খুব বেশি রক্ষণাবেক্ষনের প্রয়োজন পরেনা। বরং এখানে তারা যা ব্যবহার করবে তার জন্যই অর্থ প্রদান করতে হবে। 

 

অর্থ্যাৎ আপনার যদি এমন কোনো কাজের উদ্দেশ্য থাকে যেখানে অধিক সংখ্যক কম্পিউটার লাগবে কম সময়ের জন্য সেক্ষেত্রে আপনি ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিসটি ব্যবহার করতে পারেন। কেননা আপনি যদি এই সামন্য সময়ের জন্য এতগুলো কম্পিউটার কিনেন তাহলে এটা অপচয় ছাড়া কিছু হবেনা। 

 

কিন্তু আপনি যদি ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে সার্ভিসটি নেন তাহলে আপনি যদি তিন মাসের জন্য ‍নেন তাহলে আপনাকে শুধুমাত্র তিন মাসের টাকাই পরিশোধ করতে হবে।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর উদাহরণ

এবার তাহলে ক্লাউড কম্পিউটিং এর উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করা যাক তাহলে ক্লাউড কম্পিউটিং কী এ সম্পর্কে আরো স্বচ্ছ ধারনা হবে। আপনি খুব সম্ভবত এখনও ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করছেন হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন অথবা পারছেন না। 

 

আপনি যদি বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সার্ভিস যেমন ইমেইল সেন্ড, কোনো ডকুমেন্ট ইডিট, মুভি অথবা টিভি দেখা, গান শোনা, গেম খেলা, বিভিন্ন পিকচার স্টোর করা এগুলো যদি ব্যবহার করে থাকেন, তার মানেই আপনি ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা নিচ্ছেন। হয়তো আপনি বুঝতে পারেননি। 

 

একটি বিশাল সংখ্যক সার্ভিস প্রোভাইড হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে। অনেক অ্যাপস এর জন্য ক্লাউড কম্পিউটিং ডিফল্ট অপশন হয়ে উঠছে। এখন প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিস গ্রহণ করছে। 

 

যেমন বর্তমানে আমরা আমাদের মোবাইল ফোনের যাবতীয় ছবিগুলো ক্লাউডে ব্যাকআপ রাখতে পারি। এছাড়া বড় ধরনের বিভিন্ন সার্ভিসগুলোর ডাটা হোস্ট করে ক্লাউডের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করতে পারি। উদাহরণসরূপ বলা যায় Netflix এখানে যাবতীয় ভিডিওগুলো হোস্ট করে আমরা ক্লাউডের মাধ্যেমে সার্ভিসের অনুমতি পেয়ে থাকি।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা কি

এবার চলুন ক্লাউড কম্পিউটিং কী এর এই পর্যায়ে ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা কি এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যাক। ক্লাউড কম্পিউটিং এর অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে। নিচে ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধাগুলো উল্লেখ করা হলো:

 

ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারে কাজের গতি বৃদ্ধি

আপনি যদি ক্লাউড কম্পিউটিং থেকে একটি সার্ভিস পেতে চান তবে আপনি তাৎক্ষণিকভাবেই এটি পেতে পারেন। অর্থাৎ ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে আপনি যেকোনো সময় যেকোনো ডিভাইস থেকেই সার্ভিস নিতে পারবেন। এতে করে আপনি দ্রুততার সাথে কাজ সম্পন্ন করে আপনার কোম্পানির আয় বাড়ানো সম্ভব।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারে কোম্পানির খরচ কমানো

আমরা যখন কোনো কাজ করতে যাই তখন এর হার্ডওয়্যার পার্টসগুলো কেনাই আমাদের জন্য বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। এছাড়াও মাঝে মধ্যে এমন হয় যে আমরা কাজের জন্য একটি হার্ডওয়্যার ক্রয় করছি কিন্তু কাজের কোনো পরিবর্তনের কারনে পুরোনো হার্ডওয়্যারটি আর কাজ করছেনা। তখন হার্ডওয়্যারটি পরিবর্তন করাটাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। 

 

কিন্তু আপনি যদি ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করেন তাহলে এ ধরনের সমস্যা হবার কোনো সুযোগ নেই, কেননা আপনাকে হার্ডওয়্যার কেনারই প্রয়োজন হচ্ছেনা। 

 

আপনি হার্ডওয়্যার কেনার পরিবর্তে ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে কোনো সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে আপনি সার্ভিসটি নিতে পারেন। ঠিক যেমন আমরা কোনো কিছু ভাড়া নেই অর্থের বিনিময়ে।

 

যেটা আপনার কাজের সাথে খাপ খায়না সেটা আপনার নেবার দরকার নাই। বরং এখানে আপনি আপনার চাহিদা অনুযায়ী হার্ডওয়্যারের কনফিগারেশন সেট করে নিতে পারবেন। আপনি যেমন কনফিগারেশন নিবেন এবং কতটুকু সময়ের জন্য নিবেন সেই অনুযায়ীই আপনাকে টাকা পেমেন্ট করতে হবে। তাই এখানে আপনি আপনার খরচ কমাতে পারবেন।

 

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে পরিমাপযোগ্যতা

ক্লাউড সংস্থাগুলো খুব কম সময়ের মধ্যে অধীক সংখ্যক ব্যবহারকারীকে ক্লাউড ব্যবহারে অনুমতি দেয়। প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে সংস্থাগুলো তাদের স্টোরেজ কম বেশি করতে পারে, যা সংস্থাগুলোকে আরো অনেক ফ্লেক্সিবল করে। 

 

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে অ্যাক্সেসযোগ্যতা

ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিসটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনাকে যেকোনো জায়গা থেকে রিসোর্স, ডাটা, সার্ভিস এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে অ্যাক্সেস করতে দেয়। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও কিছু টুলস ব্যবহারের অনুমতি তারা দিয়ে থাকে।

 

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ডাটা হলো মহামূল্যবান সম্পদ। তাই আপনার ডাটা সঠিক নিরাপদ এবং টেকসই জায়গায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। 

 

ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডাররা গ্রাহকদের ডাটার জন্য সুরক্ষিত স্টোরেজ সরবরাহ করে। তারপরও আমরা যেকোনো জায়গা থেকে এই ডাটা অ্যাক্সেস করতে পারি। তাছাড়া, ক্লাউডে সংরক্ষিত সমস্ত ডাটা এনক্রিপ্ট করে রাখা হয় যেন ডাটা সুরক্ষিত রাখা যায় এবং একে টেম্পার করা না যায়।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর অসুবিধাসমূহ

প্রত্যেক বিষয়েরই ভালো দিকের সাথে কিছু মন্দ দিকও থাকে। তেমনিভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অনেক অনেক সুবিধার সাথে এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। আমি এখন এর কিছু অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করবো তাহলে ক্লাউড কম্পিউটিং কী এটা সম্পর্কে আরো পরিষ্কার ধারণা হবে।

 

ডাউনটাইম

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সমস্যাগুলোর মধ্যে কমন একটি সমস্য হলো এর ডাউনটাইম। অর্থাৎ যেকোনো সময় আপনার ক্লাউড কম্পিউটিং এর সার্ভার ডাউন থাকতে পারে। এটা হতে পারে একসাথে অনেক ব্যক্তি উক্ত সার্ভিসটি অ্যাক্সেস করছে এজন্য। যাইহোক সমস্যাটি আপনাকে কিছু সময়ের জন্য বিব্রত করতে পারে।

 

ইন্টারনেট সংযোগ নির্ভর

ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পূর্ণভাবেই ইন্টারনেট নির্ভর। তাই ভালো মানের ইন্টারনেট এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস ছাড়া আপনি আপনার কাঙ্খিত ডাটা অ্যাক্সেস নাও করতে পারেন। আবার পাবলিক ‍ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ক্লাউডের ডাটা অ্যাক্সেস করলে আপনার ডাটার জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।

 

নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। তারা হয়তো আপনাকে প্রতিশ্রতি দিচ্ছে বা তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সার্টিফিকেটও থাকে তারপরও ডাটা হারানোর একটি ভয় থেকেই যায়। 

 

হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত সংবেদনশীল ডাটার অ্যাক্সেস পেতে ক্লাউড স্টোরেজকে টার্গেট করে থাকে। তাই ঝুঁকি একটা থেকেই যায়। এজন্য আমাদের উপযুক্ত ব্যবহস্থা নেওয়া দরকার।

 

সীমিত অ্যাক্সেস

একজন ব্যবহারকারীর নিকট সীমিত কিছু অ্যাক্সেসই থাকে। সম্পূর্ণ পরিচালনার অ্যাক্সেস থাকে সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিকট। ব্যবহারকারী শুধুমাত্র তার অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য যতটুকু অ্যাক্সেস প্রয়োজন ততটুকুই পাবে ব্যাকএন্ড এর কোনো অ্যাক্সেস সাধারণত পায়না। 

 

তাই ডাটার যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ডাটার রক্ষাণাবেক্ষনের জন্য সর্বদা তৃতীয় পক্ষের সাহায্য নিতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে।

 

পরিশেষে

ক্লাউড কম্পিউটিং আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা ডাটা স্টোর, ডাটা অ্যাক্সেস সহ একাধিক কাজ গুলো করে থাকি। এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

আশা করি ক্লাউড কম্পিউটিং কী এই আর্টিকেলটি পরে আপনি এটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ব্লগটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সেই সাথে আপনার যে কোনো ধরনের মতামত বা পরামর্শর জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

One thought on “ক্লাউড কম্পিউটিং কী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *