কম্পিউটারল্যাপটপ

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কেমন কম্পিউটার দরকার

আপনি কি গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য কম্পিউটার কিনতে চাচ্ছেন, এবং চিন্তা করছেন গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কেমন কম্পিউটার দরকার? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই।

 

গ্রাফিক্স ডিজাইনের পিসি বিল্ড করার জন্য প্রথমেই যেটা বলবো সেটা হলো অবশ্যই দ্রুত এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাপ সামলাতে পারে এমন একটি চমৎকার কম্পিউটার প্রয়োজন হবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য বাছাইকৃত সেরা নিখুঁত কম্পিউটারটিতে আপনি 3D Modeling and Rendering, Video Editing অথবা Auto CAD এর কাজগুলোও সুন্দরমত করতে পারবেন। 

 

বর্তমান যুগের ইমেজ এর রেজুলেশন অনেক বেশি থাকে, ভেক্টর ইমেজগুলিও অনেক জটিল হয়ে গেছে। এজন্য দেখা যায় যে আধুনিক যে সব গ্রাফিক্স ডিজাইনের সফ্টওয়্যার যেমনAdobe Illustrator,
Adobe Photoshop
অথবা Adobe Creative Cloud সফ্টওয়্যারগুলো হার্ডওয়্যারের উপর অনেকটা নির্ভর করে যা একটি স্লো বা পুরানো কম্পিউটারে আর কাজ করা সম্ভব হবেনা।

 

Adobe Photoshop, Illustrator, InDesign এবং The Adobe Creative
Cloud
সহ অতিরিক্ত থার্ডপার্টি টুলস গুলি আপনার কম্পিউটারকে স্লো এবং অচল করে দিতে পারে যদি না আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটারটি বাছাই না করেন।

 

আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য কম্পিউটার কেনার সময় কী কী দিকে লক্ষ রাখতে হবে তার একটি তালিকা দিবো এই আর্টিকেলে, যা দিয়ে আগামী বছরগুলিতেও অনায়াসে কাজ করে যেতে পারবেন আশা করি।

 

কারো কাছে কম্পিউটারকে মনে হতে পারে একটি কালো বা ধূসর বাক্স, বা মনিটরকে মনে হতে পারে একটি টিভি।

বাহ্যিক দৃষ্টিতে যাই মনে হোক না কেন ভিতরে কিন্তু সব কম্পিউটারে একই পার্টস দিয়ে গঠিত থাকে।

 

আসুন কম্পিউটারে সেই সকল পার্টসগুলি দেখা নেওয়া যাক এবং কোন পার্টস বা হার্ডওয়্যার গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক।

 

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য সেরা হার্ডওয়্যার পার্টস

একটি পিসিতে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার পার্টস থাকে, আপনি আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পার্টসগুলি বেছি নিয়ে পিসি সাজাতে পারেন।

 

চলুন পিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্টসগুলির দিকে নজর দেওয়া যাক এবং কিভাবে সেরা পারফরমেন্সের একটি পিসি বিল্ড করা যায় সেগুলো দেখি।

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য সেরা সিপিইউ

আপনি যদি কখনো কম্পিউটারের কেস খুলে থাকেন তাহলে হয়তো দেখেছেন যে বিশাল কুলিং ফ্যানের নিচে রয়েছে একটি CPU (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) একে প্রসেসর বলা হয়ে থাকে।

 

প্রসেসরের বড় একটি বৈশিষ্ট হলো, একাধিক কোর সম্পন্ন প্রসেসরগুলি একই সময়ে অনেকগুলি কাজ করার ক্ষমতা রাখে।

একই সময়ে অনেকগুলি কাজ করাকে অনেক দ্রুত বলেই মনে হয়।  কিন্তু একাধিক কোর থাকার সমস্যা হলো, একটি সিপিইউতে যত বেশি কোর থাকে এর সিঙ্গেল কোরের ক্লক স্পিড তুলনামূলকভাবে একটু কম পাওয়া যায়।

 

উদাহরণস্বরূপ যদি বলা যায় একটি সিঙ্গেলকোর সিপিইউ এর ক্লকস্পিড যেখানে গিগাহার্জ থাকে সেখানে ডুয়ালকোরের সমান পারফরমেন্স হবে . গিগাহার্জ ক্লক স্পিড প্রতি কোরে।

 

এখন যদি আমরা এমন একটি প্রসেসর নেই যার কোর এবং ক্লক স্পিড তুলনামূলক অনেক বেশি হবে, তাহলে দুর্দান্ত হবে তাইনা ?

দুর্ভাগ্যবশত, যেহেতু বেশিরভাগ সফ্টওয়্যার সাধারণত একটি কোর ব্যাবহার করে কাজ করে। তাই আমাদের হাই ক্লকস্পিড সম্পন্ন পিসির দিকে অগ্রসর হতে হবে, একাধিক কোর নয়।

 

সহজভাবে যদি বলি, একটি কোরের গিগাহার্জের সিপিইউ আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজের জন্য একটি ৩২ কোরের গিগাহার্জের সিপিইউ এর চেয়ে অনেক ভালো হবে।

গ্রাফিক্স কাজের জন্য কিছু সুপারিশকৃত প্রসেসর হলো:

 

  • Intel i9 12900K, ১৬কোর সিপিইউ 
  • AMD Ryzen 9 5900X, ১২ কোর সিপিইউ
  • AMD Ryzen 5 5600X, কোর সিপিইউ

আপনি যদি শুধুমাত্র গ্রাফিক্স এর কাজ করে থাকেন যেমন InDesign, Illustrator বা Photoshop সেক্ষেত্রে

আপনাকে AMD Ryzen 5 5600X নেবার পরামর্শ দিবো।

 

আর যদি আপনি গ্রাফিক্স এর পাশাপাশি কিছু ভিডিও এডিটিংয়ের কাজও করবেন বলে ভেবে থাকেন তবে আপনাকে

AMD Ryzen 9 5900X নেবার পরামর্শ দিবো।

 

 

এখানে Pugetsystems এর কিছু ফটোশপ বেঞ্চমার্ক রয়েছে এখান থেকে এক নজরে দেখতে পাবেন কোন CPU কেমন পারফরমেন্স প্রদান করে গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য। 

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কেমন কম্পিউটার দরকার সেটা অনেকটা CPU এর উপর নির্ভর করে তাই CPU টা আমাদের অবশ্যই ভালোমত বিবেচনা করে নিতে হবে।

 

 

Best CPU for Graphic Design

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য সেরা RAM (মেমোরি)

গ্রাফিক্স ডিজাইন কম্পিউটারের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার পার্টস হলো RAM বা মেমরি। এটি CPU তে কাজ করার জন্য ডাটা ক্যাশ করে এবং জমা রাখে। ফলে RAM অনেক দ্রুত লোড হয় এবং প্রসেসর অনেক দ্রুত কাজ করে।


মূলত আপনি যে সকল কাজ করছেন তা আপনার মেমরিতে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ হওয়া উচিত নয়তো, পারফরমেন্স কমে যাবে।

যদি আপনার পিসিতে চলমান কাজের ফাইলগুলি RAM এর সাথে খাপ না খায়, তবে ফাইলগুলি সংক্রিয়ভাবে আপনার পিসির অন্যান্য যে মেমরি ডিভাইস আছে সেখানে স্থানান্তর হয়ে যাবে।


এর ফলে আপনার পিসি অনেক স্লো হয়ে যাবে। তাই আপনার পিসির প্রোগ্রামগুলি রান হওয়ার জন্য যথেষ্ট RAM আছে কি না তা নিশ্চিত করুন। এখন কথা হচ্ছে কতটুকু RAM যথেষ্ট? আচ্ছা চলুন একটা উদাহরণ দেওয়া যাক:

 

আপনার অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ বুট হওয়ার পরে, এটি স্মুথভাবে চলার জন্য প্রায় ৪জিবি RAM প্রয়োজন হবে। এরপরে আপনি Photoshop, Illustrator এবং InDesign অ্যাপ্লিকেশনগুলি রান করুন, কিছু ইমেজ নিয়ে কিছুক্ষণ কাজ করুন তারপর দেখবেন ইতিমধ্যে আপনি প্রায় ৮জিবি RAM ব্যাবহার করছেন।

 

 

RAM আসলেই ইন্টারেস্টিং একটি বিষয়, আপনার পিসিতে যদি যথেষ্ট RAM থাকে তবে এটা আপনার কাজের গতিকে দ্রুত করবে। কিন্তু যদি যথেষ্ট না থাকে তবে আপনার কাজের গতি কোন প্রশ্ন ছাড়াই স্লো করে দিবে। তাই আপনার পিসিতে যথেষ্ট RAM থাকাটা অবশ্যই জরুরী।

Used RAM for graphic design

গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজের সেরা পারফরমেন্স পাবার জন্য আপনাকে নূন্যতম ৮জিবি  RAM ব্যাহার করার জন্য সুপারিশ করবো। তবে আপনার কাজের চাপ যদি বেশি থাকে তাহলে আপনার কম্পিউটারকে স্লো করে দিতে পারে সেক্ষেত্রে ১৬জিবি হলে আর ভয় থাকবেনা। 

 

কেননা আপনি কাজ করার সময় যে শুধুমাত্র Photoshop, Illustrator, InDesign এই কাজ করবেন তা নাও হতে পারে। আপনার গুগল ক্রম সহ আরো অনেক অ্যাপ্লিকেশন ব্যাবহার করা লাগতে পারে সেক্ষেত্রে ১৬ হলে অনায়াসে করতে পারবেন।

 

RAM থেকে যদি আপনি সর্বোচ্চ পারফরমেন্স পেতে চান তবে আপনাকে হাই ক্লক স্পিড এবং কম CL লেটেন্সি সম্পন্ন RAM খুজতে হবে। তাই একটি Corsair DDR4 3200MHz CL15 এর পারফরমেন্স 2400MHz CL17 এর চেয়ে বেশি হবে। 

 

পরিশেষে আমি আপনাকে Corsair Vengeance LPX  সিরিজের মেমরি সুপারিশ করতে পারি, এই সিরিজ থেকেই আপনি একটি বেছে নিতে পারেন।

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য সেরা গ্রাফিক্স কার্ড

গ্রাফিক্স কার্ড কম্পিউটারের এমন একটি পার্টস যার মাধ্যমে কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ আপনার সামনে দৃশ্যমান হয়।

অর্থাৎ মনিটরে আমরা যা দেখি এই দেখানোর কাজটি করে গ্রাফিক্স কার্ড।



ধরুন, ফটোশপে আপনি একটি ইমেজ এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিলেন, একটি লাইন অঙ্কন করলেন, পৃষ্ঠাগুলি স্ক্রোল করলেন এই যে এসব কিছু আপনি মনিটরে দেখতে পাচ্ছেন, এই সকল কাজগুলিই GPU বা গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে করা হয়।



গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে একটি ভালো দিক হলো 3D Animation, Simulation, GPU Rendering, Video Editing অথবা Encoding  কোথাও GPU এর গভীর কোন কাজ নেই।



গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে আপনার যে ইমেজ ম্যানিপুলেশন সংক্রান্ত যে কাজগুলি আছে সেগুলিতে সাধারণত উচ্চ রেজুলেশনের ইমেজগুলিকে সেকেন্ডে একাধিকবার আপডেট করার জন্য GPU এর প্রয়োজন হয়না। যেমনটি প্রায়শই প্রয়োজন হয় মোশন ডিজাইন বা অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে।



তাই আমাদের গ্রাফিক্স ডিজাইনের সেরা কম্পিউটারের জন্য জিপিইউ হলো এমন একটি পার্টস যেখান থেকে আপনি কিছু অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।



সিরিয়াস গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য বলবো, আপনারা আপনার পিসির দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পারফরমেন্স বজায় রাখার জন্য আমার সুপারিশকৃত GPU হলো Nvidia GTX 1650 অথবা  GTX 1660 যদি বাজারে অ্যাভেইলেবল থাকে তবে আপনারা এটি বিবেচনা করতে পারেন।



গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য মূলত উচ্চ পারফরমেন্স এর GPU কোন প্রয়োজন নেই সুতরাং আপনি চাইলে এখান থেকে
কিছু অর্থ সাশ্রই করতেই পারেন।

 

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য সেরা SSD এবং HDD

চলুন এবার মেমরি নিয়ে কথা বলা যাক।

 

প্রিন্ট রেজুলেশন ইমেজ, র’ ইমেজ, কমপ্লেক্স ইমেজ, শত শত পৃষ্ঠা এবং গ্রাফিক্স সংযুক্ত বইগুলির জন্য কিন্তু আপনার পিসিতে প্রচুর মেমরির প্রয়োজন হবে।

 

আপনার কাজের ফাইলগুলি প্রায়শই অনেক বড় হতে পারে এবং বলা যায় দ্রুতই গিগাবাইট রেঞ্জে প্রবেশ করতে পারে, তাই আপনার সমস্ত ফাইলগুলি জমা রাখার জন্য একটি হার্ড ড্রাইভ নিতে চাইবেন।

এসব কাজের জন্য সাধারণত হার্ড ড্রাইভ ই ব্যাবহার করা হতো যা চৈাম্বকত্ব ব্যবহার করে ডাটা রিড রাইট করে। কিন্তু বর্তমানে এসব মেমরিগুলি প্রায় সব ক্ষেত্রেই SSD ( সলিড স্টেট ড্রাইভ) এ ছড়িয়ে গেছে।

 

SSD তে কোন ‍মুভিং সিস্টেম নাই বরং এখানে ফ্ল্যাশ মেমরি কার্ড বা USB মেমরি স্টিকের মতো কাজ করে। এটি একটু বড়, যা অনেক বেশি এবং অনেক দ্রুততার সাথে কাজ করে।

 

স্পিড আসলে SSD এর সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি হার্ড্রাইভের চেয়ে অনেক বেশি পারফরমেন্স প্রদান করে। যদি খরচের কথা চিন্তা করি তাহলে প্রতি গিগাবাইটে SSD এর চেয়ে হার্ড ড্রাইভ অনেক সাশ্রয়ী, কিন্তু এসএসডি অন্য সবদিক থেকে দ্রত এবং ভালো পারফরমেন্স প্রদান করে।

 

এগুলো সাধারণত সাইজে ছোট, দীর্ঘ স্থায়ী যে কোন ওয়ার্কলোডে দ্রুত রিড রাইট করার ক্ষমতা রয়েছে এবং কম পাওয়ার ব্যাবহার করে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের সেরা কম্পিউটারের জন্য আপনাকে কমপক্ষে ৫০০ জিবির একটি SSD থাকতে হবে।

 

পরবর্তীতে আপনার SSD দরকার হলে পুনরায় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। আপনি চাইলে Samsung 860 EVO 500GB SATA SSD এই এসএসডিটি দেখতে পারেন।

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য সেরা মাদারবোর্ড

মাদারবোর্ড কম্পিউটারের এমন একটি পার্টস যেখানে কম্পিউটারের বাকি পার্টসগুলি একত্রে সংযোগ হয়। প্রত্যেক মাদারবোর্ড এই CPU এর জন্য একটি সকেট টাইপ থাকে সেখানে CPU সংযোগ করা হয়।

 

তবে মাদারবোর্ড ভেদে CPU টাইপ আলাদা থাকে। যেমন, একটি Intel i9 1200k CPU প্রসেসরে একটি LGA 1700 সকেট থাকবে এবং একটি AMD Ryzen 5600x প্রসেসরে একটি AM4 সকেটসহ একটি মাদারবোর্ড প্রয়োজন হবে।

 

নিচে মাদারবোর্ড এর কিছু বৈশিষ্ঠ উল্লেখ করা হলো;

 

  1. একটি ইনবিল্ড ওয়াইফাই চিপ বা কার্ড
  2. রাউটার থেকে সরাসরি তারের মাধ্যমে সংযোগ নেবার জন্য একটি LAN পোর্ট
  3. একটি সাউন্ড চিপ
  4. ইনপুট ডিভাইস , আউটপুট ডিভাইস এবং অন্যান্য কাজের জন্য অনেকগুলি USB পোর্ট যা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

গ্রাফিক্স ডিজাইন কম্পিউটারের জন্য মাদারবোর্ডে একাধিক PCI-E স্লট থাকা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু আপনার যদি গেম খেলা বা 3D সফ্টওয়্যার ব্যাবহার করার পরিকল্পনা থাকে তবে আপনার একাধিক PCI-E সম্পৃক্ত একটি মাদারবোর্ড নেওয়া উচিত।

 

আমি নিচে কম্পিউটার বিল্ড করার জন্য একটি বিল্ড পরিকল্পনা করেছি। চাইলে আপনি দেখে নিতে পারেন, ভালো হবে আশা করছি।

 

আপগ্রেড করার ক্ষমতা

আমরা সবাই জানি বা দেখি যে নতুন প্রযুক্তি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, আপনি এখন একটি নিলেন ১বছর পর দেখবেন নতুন ভার্সন চলে এসেছে।

আপনি যদি আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইনের কম্পিউটারটি আপগ্রেড করতে চান সম্পূর্ণ নতুন সিস্টেম না কিনে, সেক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে ভুলবেন না:

AMD এর CPU যেমন Ryzen এর Trreadripper AM4 এবংsTR4 সকেটগুলিতে আপনি পরবর্তি কয়েকটি রিলিজের

CPU গুলি ব্যাবহার করতে পারবেন মাদারবোর্ড না কিনেই

 

RAM সাধারণত খুব সহজেই আপগ্রেড করা যায়। বেশিরভাগ মাদারবোর্ডে ২টি থেকে ৩টি  RAM স্লটস থাকে কিছু মাদারবোর্ডে আবার ৪টি স্লটও থাকে। তবে কিছু হাইএন্ড মাদারবোর্ড থাকে যেখানে ৮টির মত RAM স্লটসও থাকে।

 

তাই আপনি যদি চান যেটা সেটাপ করা আছে সেটা পরিবর্তন করে নতুন করে নিবেন সেটাও পারবেন আবার যদি কোন ফাকা স্লট থাকে সেখানেও সেটাপ করতে পারবেন খুব সহজেই।

 

GPU গুলি PCI-E স্লটে প্লাগ করা থাকে। এটি সাধারণত কোন সমস্যা ছাড়াই পরিবর্তন করা যায় যদি না আপনি সম্পূর্ণ নতুন GPU নেন। নতুন GPU এর জন্য নতুন একটি PCI-E প্রয়োজন। যদিও এটা হওয়া প্রায় অসম্ভব কেননা PCI-E এর ব্যাকওয়ার্ড সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

আপনার পাওয়ার সাপ্লাই কি পরিমানে পাওয়ার সাপ্লাই দিচ্ছে সে সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া উচিত। সামগ্রিক সিস্টেমের জন্য কতটুকু পাওয়ার প্রয়োজন এবং যদি আপনি অতিরিক্ত GPU সংযুক্ত করেন সেটাও বিবেচনা করতে হবে।

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য সেরা মনিটর

এবার আসা যাক কম্পিউটারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ সেটি হলো মনিটর। মনিটরের ক্ষেত্রে আপনাকে বাজেটের দিকে একটু ছাড় দিতেই হবে। দেখা যাবে ২৪একটি মনিটর আপনি ১১হাজার টাকায় পাবেন। আবার একই সাইজেরই কিছু মনিটর আছে যার দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

 

এর পিছনে তো অবশ্যই কিছু কারণ আছে যেমন ব্র্যান্ড, অতিরিক্ত বৈশিষ্ঠ, পিভট, ডিজাইন এবং আরো অনেক কিছু। তাছাড়াও একটি দামী ব্র্যান্ডের মনিটর এবং সস্তা মনিটরের মধ্যকার প্রধান পার্থক্য হলো এর কালারগুলির ডিসপ্লে কোয়ালিটি।

 

তাছাড়া, যে বিষয়গুলি ব্যায়বহুল মনিটরে বেশি ব্যবহৃত হয় তা হলো color range, better contrast, higher bit-depts, blacker black, brighter whites এবং faster response time। তবে এখানে আপনাকে মনিটর সাজেস্ট করা আমার পক্ষে কঠিন, কেননা এখানে বেশ কিছু ব্যাপার রয়েছে। 

 

একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে দিন জুরে আপনি কি কাজে ব্যাস্ত থাকবেন সে সম্পর্কে আপনার আরো চিন্তা করতে হবে আপনার কাজ যদি এমন হয় যে আপনি সারাক্ষণ বিভিন্ন কালার নিয়ে কাজ করছেন যেমন ধরুন একটি ম্যাগাজিনের জন্য কালার সিলেক্ট করলেন এখন আপনার মনিটরের কালার এবং প্রিন্টকৃত কালার নির্ভুল হওয়াটা জরুরী। 

 

সুতরাং এসব কাজের জন্য অবশ্যই একটি ভালো মনিটর আপনাকে নিতে হবে। 

 

এখন যদি আপনার বাজেট কম হয়, তাহলে আপনার কালারগুলি চেক করার জন্য একটি ছোট মনিটর এবং পিসির বাকি প্রোগ্রামগুলি চালানোর জন্য একটি বড় কিন্তু কম মূল্যের মনিটর নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন।

 

 

অন্যান্য হার্ডওয়্যার ডিভাইস

 

এখন আমি এমন বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবো যেটা আপনার কাজের পারফরমেন্স এর উপর খুব বেশি প্রভাব ফেলবেনা। তবুও আপনার এই বিষয়গুলি সাবধানতার সাথে বেছে নেওয়া উচিত।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য পাওয়ার সাপ্লাই

গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য একটি আদর্শ কম্পিউটার প্রস্তুত করতে আপনার আরো কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন পাওয়ার সাপ্লাই। পাওয়ার সাপ্লাই হলো কম্পিউটারের শক্তির উৎস। 

 

তাই আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে এটি সম্পূর্ণ লোডের মধ্যেও কম্পিউটারকে অনায়াসে চলার জন্য যথেষ্ঠ ওয়াট সরবরাহ করতে পারে। আপনি wattage calculator এর মাধ্যমে আপনার পিসির পাওয়ার চাহিদা কত হতে পারে তা দেখে নিতে পারেন।

 

গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য CPU কুলার

আপনি যে CPU নিবেন তার উপর ভিত্তি করে আপনাকে একটি CPU কুলারও নিতে হবে। অনেক CPU এর সাথে বক্সযুক্ত CPU কুলার সাথে আসে, তবে আপনি যদি উচ্চমানের CPU ব্যাবহার করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে একটি অতিরিক্ত প্রসেসর কুলিং সিস্টেম যুক্ত করতে হবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য পিসি কেস

গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য আসলে কেস কোন ব্যাপার না, তবে এটি আপনার পিসির সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

সাধারণভাবে যদি নিতে চান সেক্ষেত্রে টাওয়ার কেসগুলি নিতে পারেন। 

 

এগুলি আপনার হার্ডওয়্যারের সাথে সুন্দরভাবে ফিট করবে। এই টাওয়ার কেসগুলি আপনার ব্যাক্তিগত ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন আকার, ডিজাইন, এবং কালার দেখে নিতে পারবেন।

ইনপুট ডিভাইস

ইনপুট ডিভাইসের এই অংশটি গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কেমন কম্পিউটার দরকার এই আর্টিকেলের শেষ পয়েন্ট হবে।

 

এগুলো সাধারণত আপনার ব্যাবহার এর উপর নির্ভর করছে।  আপনি কোনটি ব্যাবহার করে সাচ্ছন্দ বোধ করছেন সেটা আপনাকে আইডেন্টিফাই করতে হবে। 

 

চাইলে পরিচিত কারো কাছ থেকে ডিভাইসগুলি নিয়ে অথবা নিকটস্থ দোকানে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন যে কোনটা আপনার ভালো লাগে। ব্র্যান্ড এর ক্ষেত্রে যদি বলি তাহলে A4TECH অথবা Logitech ব্র্যান্ডগুলি দেখতে পারেন। আমি নিজে ব্যাবহার করছি খুব ভালো পারফরমেন্স পাচ্ছি।

 

 

আশা করি উপরের আর্টিকেল থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কেমন কম্পিউটার দরকার এই সম্পর্কে মোটামুটি ভালো একটি একটা ধারণা পেয়ে গেছেন। 

 

এরপর যদি কোন কিছু জানার থাকে তবে আমাদের সাথে

যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করবো আপনাকে সাহায্য করার।

3 thoughts on “গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কেমন কম্পিউটার দরকার

  • ইব্রাহিম

    খুব ই উপকারী একটি পোষ্ট। এত ডিটেইল্সে সুন্দর করে বুঝিয়ে আর্টিকেল টি লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

    Reply
    • আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

      Reply
  • আপনার আর্টিকেল টি পড়ে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর করে বুজিয়ে দেওয়ার জন্য

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *