ইন্টারনেট সিকিউরিটিতথ্য প্রযুক্তি

সাইবার বুলিং কি? সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয়

বর্তমানে আমরা তথ্য প্রযু্িক্তির যুগে বসবাস করছি। আমাদের দিনরাতের বেশিরভাগ কাজগুলোই কোনো না কোনোভাবে তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে। আমরা যেমন বিভিন্নভাবে তথ্য প্রযুক্তির সুফল ভোগ করি তেমনিভাবে এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। এগুলোর কারণে আমরা বিভিন্নভাবে ভুগে থাকি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লিখা আমার এই সাইবার বুলিং কি আর্টিকেলটি।

 

সাইবার বুলিং কি

সাইবার বুলিং হলো সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধ্যম ব্যাবহার করে অনলাইনে কোন ব্যাক্তিকে হয়রানি করা বা উত্যক্ত করা। অর্থাৎ দুজন ব্যাক্তির মধ্যে যখন ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি হয় তখন অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যাবহার করে অপরজনকে আক্রমণ করাই হলো সাইবার বুলিং।

 

আমাদের জীবনের সাথে সামাজিক মাধ্যম যেন ওতপ্রোতভাবে জরিত। ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে আমরা অফলাইনের চেয়ে অনলাইনেই বেশি সময় দেই। ফলে দেখা অনলাইন বন্ধুদের সাথেই আমরা বেশি আড্ডা দেই, এবং বেশি প্রাধান্য দেই।

 

এইযে অনলাইনে এত এত মানুষদের সাথে আমরা পরিচিত হয়, বন্ধুত্ব হয়। তাদের কাউকেই কিন্তু আমরা আগে থেকে চিনিনা। ফলে কে কি রকম তাদের উদ্দেশ্য ভালো নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে সেটাও আমরা বুঝতে পারিনা। ফলে দেখা যায় তাদের কাছ থেকেই আমরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হই।

 

কারা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়

সাইবার বুলিংয়ের শিকার বলতে গেলে সব প্রায় সবাই পরতে পারে। নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী সবাই এর শিকার হতে পারে। TheDailyStart এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে সাইবার বুলিংয়ের হার অনেক বেশি। এবং এই হার মেয়ে এবং মহিলাদের জন্য ৮০শতাংশ। অর্থ্যাৎ সাইবার বুলিংয়ের জন্য মেয়েরাই বেশি টারগেট হয়।

 

সাইবার বুলিং নিয়ে কিছু পরিসংখ্যান

Search Engine Journal এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ৫৯.৯ শতাংশ মানুষ সোস্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে। যা ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর প্রায় ৯২.৭ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহারকারীর প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই বলেছেন তারা কোনো না কোনো ভাবে বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। 

 

২০১৯ সালে ইউনিসেফের একটি জরিপ অনুযায়ী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া মানুষের মধ্যে ৩৮শতাংশ মানুষের বয়স ১০ থেকে ১৩ এর মধ্যে। ৩৬শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর এবং ২৫শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ১৭বছর। 

 

এখানে আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো বেশিরভাগ সাইবার অপরাধী বা হ্যাকারদের বয়সও ১৭ থেকে ১৭ বছর।

 

একটি জরিপ অনুযায়ী ঢাকার সাইবার বুলিংয়ে নারীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ সহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের উপর চালানো একটি গবেষনা অনুযায়ী এসব দেশে সাইবার বুলিংয়ের হার উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে নারী এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীরা।

সাইবার বুলিংয়ের কুফল

সাইবার বুলিংয়ের ফলে মানুষ সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় সম্মুখিন হয় তা হলো হতাশা। বিভিন্ন ধরনের হতাশা তাদের মধ্যে বিরাজ করে। অনেককেই অনেক ধরনের ব্ল্যাকমেইল এর সম্মুখিন হতে হয়। এটা আরো বড় আকার ধারণ করে যখন ভিকটিম অন্য কারো সাথে এই ঘটনা শেয়ার করতে পারেনা।  ফলে দেখা যায় একটি পর্যায়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

 

সাইবার বুলিং এর উদাহরণ

এবার একটি সাইবার বুলিং এর উদাহরণ দেওয়া যাক। 

ভোলার চরফ্যাশনে একটি গ্রাম সেখানে থাকতো নীলা(ছদ্মনাম) নামের একটি মেয়ে। শৈশবে মাকে হারিয়ে নানা-নানীর কাছে থাকতো। বাবা জীবিকা নির্বাহের জন্য ঢাকায় থাকতেন। বাবার সাথে যোগাযোগ করার জন্য মেয়েটিকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া হয়। মেয়েটি অনেকদিন ধরেই ফোন ব্যাবহার করতো একদিন অপরিচিত নাম্বার থেকে একটি ছেলের কল আসে। মেয়েটিও উৎসুক হয়ে ছেলেটির সাথে কথা বলতে থাকে।

 

কয়েকদিন কথা বলার এক পর্যায়ে মেয়েটির কাছ থেকে একটি ছবি চেয়ে বসে ছেলেটি। মেয়েটিও সরল মনে ছেলেটিকে ছবিটি দিয়ে দেয়। কিন্তু মেয়েটি ছবি দেবার সাথে সাথেই ছেলেটি ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। তাকে এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রাজি হবার জন্য হুমকি দিতে থাকে। একদিন ছেলেটি বলে আজ রাত ৯টায় শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে তার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করে দিবে। 

 

মেয়েটি বিষয়টা কারো সাথে শেয়ারও করতে পারছিলোনা। এক পর্যায়ে সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে সে আত্মহত্যা না করে তার এক বান্ধবির কাছ থেকে চাইল্ড হেল্পলাইন সম্পর্কে জানতে পারে। পরবর্তীতে সে চাইল্ড হেল্প লাইনে( ১০৯৮) কল দেয়।

 

মেয়েটির কথা শুনে মেয়েটির অনুতিক্রমে থানার ওসির সাথে কনফারেন্সে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। সেদিনেই অপরাধীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মেয়েটির স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসার জন্য তাকে কাউন্সিলিং দেওয়া হয়।  

 

প্রকৃতপক্ষে সচেতনার অভাবে সবাই নীলার মত প্রতিকার পায়না।

 

সাইবার বুলিং কত প্রকার

ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তি ব্যাবহারের ফলে মানুষ বিভিন্নভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারে। চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক সাইবার বুলিং কত প্রকার?
নিচে কিছু কমন সাইবার বুলিং নিয়ে আলোচনা করা হলো:

Harassent: যখন কেউ হয়রানির শিকার হয় তখন তাকে অনলাইনের মাধ্যমে অপমানজনক কথা, কটু কথা বা ভয়-ভীতি দেখানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি মানুষ মোবাইল ফোন, টেক্সট বা ইমেইলের মাধ্যমেও হয়রানির শিকার হতে পারে। 

Doxing: ড্রক্সিং হলো এমন একটি বিষয় যেখানে কেউ একজন অন্য একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য ‍যেমন মোবাইল নাম্বার, বাসার ঠিকানা, ব্যাংকের তথ্য তার অনুমতি ছাড়াই কোনো পাবলিক ফোরামে শেয়ার করে দেয়। ড্রক্সিং এর প্রভাবে মানুষ মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙ্গে পরে। 

Cyberstalking: সাইবারস্ট্যাকিং এমন একটি অপরাধ যেখানে অপরাধি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল, মেসেজিং বা বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে ভিকটিমকে হয়রানি করা করে। এরা অনেক সময় নিজেদের নাম গোপন করে যোগাযোগ করে। 

Revenge porn: যখন কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা যৌনতাপূর্ণ ছবি বা ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয় বা অনুমতি ছাড়াই কোন নির্দিষ্ট সাইটে শেয়ার করা হয় তখন এটাকেই রিভেঞ্জ পর্ন বলা হয়। সাধারণত এই ছবিগুলো তার কোন প্রাক্তন পার্টনারা দ্বারা ছড়িয়ে পরে। এটা সাধারণত তার সম্মান নষ্ট করা বা বিভিন্ন ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে। 

Swatting: এটাকে প্রাঙ্ক কলের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এখানে কোন একজন নাম পরিচয়হীন অজ্ঞাত ব্যক্তি কোন সশস্ত্র বাহিনীকে ফোন দেয়। এরপর তাদেরকে বলে ওমুক জায়গায় খুব সমস্যা হয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে সেখানে আসতে বলে। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে গিয়ে দেখা যায় কোন সমস্যাই হয়নি। 

Corporate attacks: কর্পোরেট জগতে কোন ওয়েবসাইটকে অকার্যকর করে তুলতে ওয়েবসাইটিতে ব্যাপক তথ্য পাঠাতে এই কর্পোরেট অ্যাটাক ব্যাবহার করা হয়। কর্পোরেট অ্যাটাকের ফলে জনগনের কাছে আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে, ব্যাবসার সুমানমকে নষ্ট করে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায় ধস ও নামতে পারে। 

Account hacking: এক্ষেত্রে বুলিংয়ের শিকার ব্যক্তিদের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট এবং পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়ে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায় তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অপমানজনক বা ক্ষতিকারক বা আর্থিক সহায়তার বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার হচ্ছে। 

False profiles: কোন ব্যাক্তি বা ব্র্যান্ডের খ্যাতি নষ্টা করার বা এসব ব্র্যান্ডকে ব্যাবহার করে সুবিধা নেবার জন্য এই false profile দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়। ভিকটিমের পাবলিক করা সকল ছবিগুলো প্রমাণস্বরূপ কাজে লাগাতে পারে। 

Slut shaming: এটা সাধারণত মৌখিকভাবে এই বুলিংটা করা হয়। যখন কেউ কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বা অপমান করার উদ্দেশ্যে কিছু বলা হয় এটাকেই ‍slut shaming বলা হয়। এটা আরো বেশি হয় যখন কেউ কারোর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জরিয়ে পরে এবং এটা পাবলিক হয়ে যায়।

 

সাইবার বুলিং এর কারণ

এইযে মানুষ এতো এতো সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। কত মানুষ সাইবার বুলিং সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। এসবের কারণ কি? আমরা সাইবার বুলিং কি তা জানতে পেরেছি এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক যে সাইবার বুলিং মানুষ কেন করে?। চলুন আমরা কয়েকটা সাইবার বুলিং এর কারণ দেখে আসি। 

তারা হয়তো নিজেরাই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে: এমন হওয়াটা খুব স্বাভাবিক যে তারা হয়তো নিজেরাই একসময় সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে ফলে তারা অন্যদেরকে সাইবার বুলিং করছে। যখন তারা নিজেরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছিলো এবং যে আঘাতটি পেয়েছিলো সেটা দূর করার জন্য তারা অন্যদের বুলিং করার মত ভুল পথ বেছে নেয়। 

সাইবার বুলিং গ্রুপে নিজেকে যুক্ত করা: যখন কেউ দেখে যে অন্য একজন ব্যক্তিকে তার পরিচিত কয়েকজন বা তারা বন্ধুরা মিলে সাইবার বুলিং করছে তখন সে ভাবে নিজেকে এই দলে যুক্ত না করলে সে বন্ধুদের মধ্যে ফিট হবেনা। যার ফলে একসময় সে নিজেকেও এই দলে যুক্ত করে ফেলে। 

পারিবারিক জীবন: এমন অনেকেই আছে যারা পারিবারিক জীবনে সুখি না। তারা বাসায় একা একা থাকে বা কারো সাথে কোনো কিছু শেয়ার করতে পারেনা। ফলে সে কোনো এক পর্যায়ে তার হতাশা কাটাতে অনলাইন কে বেছে নেয় এবং ইন্টারনেট আসক্ত হয়ে পড়ে। এই ব্যাপারগুলি তখনি বেশি ঘটে যখন তার সাথে খোলাখুলি ভাবে কথা বলা বা বন্ধুত্বপরায়নভাবে চলার মত পরিবারে কেউ থাকেনা। অথবা সে কি করছে সেটা পর্যবেক্ষন করার মতও কেও থাকেনা। 

পাওয়ার: এমন অনেকেই আছে যারা তাদের পাওয়ার দেখানোর জন্য এবং সিচুয়েশন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেখানোর জন্য সাইবার বুলিং বেছে নেয়। 

প্রতিহিংসা: সাইবার বুলিংয়ের একটি কমন কারণ হলো কারো প্রতি প্রতিহিংসা। বিশেষ করে এটি বেশি লক্ষ করা যায় কিশোর এবং তরুণদের মধ্যে। আমরা সবাই জানি টিনেজার বয়সটা খুব কঠিন একটি বয়স এই বয়সে কিশোরেরা প্রতিমুহুর্তে নিজেদের আবিষ্কার করতে থাকে। এই বয়সে তারা নিজেরা অন্যদের সাথে তুলনা করতে থাকে ফলে কেউ কেউ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে সাইবার বুলিংয়ের অপব্যাবহার করে। 

সাইবার বুলিং এবং ভিডিও গেম: গত কয়েক বছরে অনলাইন গেমের ব্যাবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সবাই জানি যে ভিডিও গেমার রা অনলাইনে দলগতভাবে ভিডিও গেম খেলতে পারে। ফলে তারা যোগাযোগ করার জন্য মাইক্রোফোন ব্যাবহার করে অন্য ব্যাবহারকারীদের সাথে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। এটি ভালো টিমওয়ার্ক করতে এবং সামগ্রীকভাবে গেমিং এর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ব্যাবহার করা যেতে পারে। কিছু খেলোয়ার এই সুযোগের অপব্যাবহার করে তারা মৌখিকভাবে ভিডিও গেমের মধ্যেই অন্য খেলোয়ারদের বুলিং করে।

 

সাইবার বুলিং আইন

বাংলাদেশে সাইবার বুলিং সম্পর্কিত একটি আইন রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যদি কেউ এই অপরাধ সংঘঠিত করে তবে তাকে ২ (বছর)বৎসর কারাদন্ডে বা অনধিক ৩লাখ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় ডন্ডে দন্ডিত হবে। নিচে সাইবার বুলিং আইনটি উল্লেখ করা হলো:

 

প্রস্তাবিত আইনের ২৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি ও ওয়েবসাইট বা অন্য কোন ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এইরূপ কোন তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথাব মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্বেও, কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে কোন তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন। বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করার, বা বিভ্রান্তি ছড়াইবার, বা উদ্দেশ্যে, অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য ওই ব্যক্তির এ ধরনের কাজ হবে একটি অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ২ (বছর)বৎসর কারাদন্ডে বা অনধিক ৩লাখ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় ডন্ডে দন্ডিত হবে।’

সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয়

এবার আমরা সাইবার বুলিং কি এর এই পর্যায়ে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। নিচে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয়গুলো উল্লেখ করা হলো:

  • সব ধরণের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট কারো সাথে শেয়ার না করা

  • ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার থেকে বিরত থাকতে হবে

  • ফেক প্রোফাইল থেকে সতর্ক থাকতে হবে

  • সাইবার বুলিং সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই আস্থাভাজন কারো সাথে শেয়ার করতে হবে

  • অনলাইনে কোনো কিছু শেয়ার করার পূর্বে ভালোভাবে যাচাই করা উচিত যে তথ্যটি সঠিক কিনা বা এটি দিলে আপনার কোন সমস্যা হতে পারে কিনা

  • ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করার পূর্বে আমাদের আরো সতর্ক থাকতে হবে। কেননা এর মাধ্যমেই বেশি বুলিংয়ের শিকার হয়। 

 

 

 

এই ছিলো সাইবার বুলিং কি এই সম্পর্কে কিছু কথা আশা করি উপরের এই আর্টিকেল থেকে সাইবার বুলিং কি এই সম্পর্কে মোটামুটি ভালো একটি একটা ধারণা পেয়েছেন। এর পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখতে হবে।  

 

এরপরও যদি কোন কিছু জানার থাকে তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করবো আপনাকে সাহায্য করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *