কম্পিউটার এক্সেসরিজ

LG 22mk600m Monitor রিভিউ

বর্তমান মার্কেট অনুসারে ১৪-১৫ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে LG 22mk600m Monitor আপনার সেরা পছন্দ হতে পারে। তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে আমি এই মনিটরটি ব্যবহার করে আসছি। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ LG 22mk600m Monitor এর কিছু খুটিনাটি বিষয় তুলে ধরবো। আশা করি এর মাধ্যমে আপনি এই মনিটর সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা পাবেন।

 

LG 22mk600m Monitor রিভিউ

LG 22mk600m Monitor টি এর দাম অনুযায়ী নির্ভূল কালার অ্যাকুরেসি এবং বেস্ট ইমেজ কোয়ালিটি প্রোভাইড করে। যারা নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য একটি ব্যালেন্সিং মনিটর খুঁজছেন তাদের জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে এই মনিটরটি। মনিটরটির সামগ্রীক রেটিং বিবেচনা করলে দেখা যায় এটি গেমিংয়ের জন্য ৯/১০ এবং ভিডিও এডিটিং এর জন্য ৮/১০।

 

মনিটরটির প্যানেল টাইপগুলো হলো IPS, PLS, AHVA, TN, VA। পরের দুটি হলো গেমিংয়ের জন্য, বিশেষ করে কম্পিটিটিভ গেমের জন্য। মনিটরটিতে ফাস্ট রেসপন্স এবং বেস্ট রিফ্রেশ রেট বিদ্যমান রয়েছে। আপনি যদি ইমেজ কোয়ালিটি, কালার অ্যাকুরেসি এবং কন্ট্রাস্ট বিবেচনা করেন তাহলে IPS (In-plane switching) হলো সেরা পছন্দ। 

 

IPS প্যানেলগুলিতে দূর্দান্ত ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল রয়েছে বেশিরভাগ সময়ই যা প্রায় ১৭৮ডিগ্রি পর্যন্ত হয়ে থাকে। IPS প্যানেলের সত্যিকারের প্রতিযোগি হিসেবে ধরা যায় OLED প্যানেলকে কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। 

 

যাইহোক, আপনি যদি গেমার হিসেবে সিঙ্গেল প্লেয়ার গেমগুলো পছন্দ করেন, তাহলে আপনার IPS এর সাথেই যাওয়া উচিত। এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এটি আপনাকে ম্যাক্সিমাম ইমেজ ফিডেলিটির সুবিধা প্রদান করবে। আপনি এটি ভিডিও এডিটিংয়ের জন্যও ব্যবহার করতে পারবেন।

 

LG 22mk600m Monitor এর দাম

বর্তমানে আর্টিকেলটি লিখার সময় এর মার্কেট প্রাইস ১৪হাজার ৫০০শত টাকা। এর দাম বিভিন্ন সময়েই পরিবর্তীত হয়। তাই আপডেট দাম জানতে চোখ রাখতে পারেন স্টারটেক অথবা রায়ান কম্পিউটারস এ। 

 

স্পেসিফিকেশন এবং বিল্ড কোয়ালিটি

এর বিল্ড কোয়ালিটি বলা যায় সর্বোৎকৃষ্ট মানের। এর একটি অত্যন্ত স্ট্যাবল একটি মাউন্ট রয়েছে। প্যানেলটি একাধিক স্ক্রুসহ একটি স্ট্যান্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে যার ফলে একাধিক ঝাঁকুনির পরেও এটি স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। 

 

মনিটরটি মাঝে মাঝে কেঁপে উঠে, মনে হয় এটি পরে যাবে। যদিও মনিটরটি পরেনা কিন্তু ব্যাপারটা অস্বস্তিকর। স্ট্যান্ডটির নিচের দিকে একটু বাঁকা ধরনের যা অনেক জায়গা জুরে বিস্তৃত থাকে, এবং এটি মনিটরকে স্থিতিশীল রাখে। 

 

তবে একটা বিষয় খেয়াল করছি যে মনিটরটি খুব বেশি বাঁকা(উপরে নিচে) করা যায়না। আমি যখন সোফা বা ফ্লোরে বসে মুভি দেখতে চাওয়ার কারণে বাকা করতে চাই তখন এটা বাকা হয় তবে স্মুথলি হয়না। মনে হয় হয়তো ভেঙ্গে যাবে।

 

এটি VESA ওয়াল মাউন্টিং সাপোর্ট করে এটি 75*75মিমি. ইন্টারফেস রয়েছে। এতে রয়েছে ২টি HDMI 1.4 পোর্ট, একটি  1 D সাব এবং 1.3mm অডিও আউটপুট পোর্ট। এছাড়াও অতিরিক্ত ফিচারের মধ্যে রয়েছে AMD Freesync technology, Black Stabilizer, a digital crosshair, DDC/CI, Dynamic Action Sync, Flicker-free technology, এবং ‍Super Resolution।

 

Freesync হলো এমন একটি টেকনোলোজি যা পরিবর্তনশীল রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। যা আপনার মনিটরে গেম খেলার সময় বা অ্যাকশন মুভি দেখার সময় স্মুথলি চলবে, ইমেজ বা ভিডিওগুলো কখনো ভেঙ্গে যাবেনা। 

 

LG 22mk600m Monitor এর ডায়নামিক অ্যাকশন সিঙ্ক গেমারদের ডিসপ্লে এং ইনপুট ল্যাগ কমাতে সাহায্য করে। ফ্লিকার-ফ্রি হলো ভিডিও ডিসপ্লেতে দেওয়া একটি টার্ম যেটা প্রাথমিকভাবে ক্যাথোড রে টিউব এটা মনিটরের ফ্লিকারের দৃশ্যকে প্রতিরোধ করে রিফ্রেশ রেট বাড়াতে কাজ করে। মনিরটরটির ব্ল্যাক স্টেবিলাইজার গেমিংয়ের সময় এর অন্ধকার অঞ্চলগুলোকে উজ্জল করে দেয়।

 

LG 22mk600m Monitor এর অ্যাডজাস্টমেন্ট

LG 22mk600m Monitor এর উচ্চতা অ্যাডজাস্ট করা যাবেনা, এটি  পোর্টট্রেইট ভিউ এর জন্যও কোনো সাপোর্ট নেই। শুধুমাত্র ল্যান্ডস্কেপ মোডটিই সাপোর্ট করে অ্যাডজাস্ট করার জন্য। আপনি চাইলেই এটিকে বাম বা ডানে ঘুরাতে পারবেন না, শুধুমাত্র সামনে বা পিছনে কাত করানো যাবে। এটি ২ডিগ্রি সামনে এবং ১৫ডিগ্রি পিছনে কাত হতে পারে।

 

LG 22mk600m Monitor এর ওজন

এই মনিটরটির ওজন খুব বেশি না আবার খুব কমও না, মাঝামাঝি ধরনের বলা যায়। স্ট্যান্ড ছাড়া এটির ওজন প্রায় ২.৩কেজি এবং স্ট্যান্ড সহ এর ওজন হয় প্রায় ২.৭কেজি। LG 22mk600m Monitor টি কোনো প্রকার 3D ভিডিও সাপোর্ট করেনা এবং এর কোনো বিল্ড-ইন ক্যামেরাও নেই।

 

LG 22mk600m Monitor এর ডিসপ্লে

মনিটরটি 1920*1080 রেজুলেশন পর্যন্ত সাপোর্ট করে। LG 22mk600m Monitor এর ডিসপ্লে সাইজ ২১.৪ ইঞ্চি। এর রিফ্রেশ রেট ৫৬ হার্জ থেকে ৭৫ হার্জ পর্যন্ত। এর ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল দেখতে অনেকটা IPS প্যানেলের মত এটি দেখার কোণ হলো ১৭৮ ডিগ্রী। যার মাধ্যমে আপনি যেকোনো অ্যাঙ্গেল থেকে ক্লিয়ার ইমেজ বা ভিডিও দেখতে পারবেন। কোনো প্রকার নেগেটিভ দেখা যাবেনা। 

 

এর বিট গভীরতা হলো ৮বিট যা বলতে গেলে এক ধরনের বামার। মানের বিট গভীরতা আপনি এই মূল্যে অন্য মনিটরে পাবেন না। এর FRC (ফ্রেম রেট কন্ট্রোল) এমন একটি পদ্ধতি যা পিক্সেল গুলাকে দ্রুততার সাথে আরো অধিক কালার টোন তৈরিতে করে। এর ফলে দুইটি কালারের মধ্যবর্তীতে একটি নতুন কালার তৈরি হয়। 

 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় সাদা এবং কালোর মধ্যে দ্রুত কালার পরিবর্তন করতে এর মাঝে ধূরস কালার তৈরি করা হয় এর ফলে ভিডিওর বা ইমেজের একটি কালারের পরিবর্তে নতুন একটি কালার আসে তখন আমরা এর মাঝের পরিবর্তনের ঝাঁকুনিটা লক্ষ করতে পারিনা। 

 

LG 22mk600m Monitor এর অপারেটিং তাপমাত্র ০ থেকে ৪০ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং অপারেটিং আর্দ্রতা প্রায় ১০% থেকে ৮০%। এর স্ট্যান্ড এ একটি অ্যান্টি-থিফ লক রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি চাইলে এটি তালা দিয়েও রাখতে পারেন চুরি প্রতিরোধ করতে। 

 

মনিটরটি স্লিপ মোডে থাকা অবস্থায় এর পাওয়ার খরচ ০.৩ ওয়াট আর অন্যান্য সময় এর এভারেজ পাওয়ার খরচ ১৩.৫ ওয়াট। মনিটরটি সর্বোচ্চ পাওয়ার খরচ প্রায় ১৬.৪ওয়াট। মনিটরটি পাওয়ার খরচ কমানোর জন্য একে প্রসংশিত করাই যায়।

 

LG 22mk600m Monitor এর প্যাকেজিং সিস্টেম

এই মনিটরটির প্যাকেজিং সিস্টেম অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয়। এটি থার্মোকল সুরক্ষাসহ একটি পিচবোর্ডের বক্সে আসে। এই বক্সের ভিতরে মনিটরটি স্থাপন করা থাকে খুব সুরক্ষিতভাবে এবং এর বাইরের অংশে স্ট্যান্ডের অংশগুলো, ওয়ারেন্টি কার্ড, একটি ম্যানুয়েল, পাওয়ার ক্যাবল, একটি ডিস্কগুলো দেওয়া থাকে। একটি HDMI ক্যাবলও দেওয়া থাকে।

 

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

আমি বিগত তিন চার বছর ধরে LG 22mk600m Monitor টি ব্যবহার করে আসতেছি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি তবে এতটুকু বলতে পারি যে মনিটরটি থেকে আমি দূর্দান্ত পারফরমেন্স পাচ্ছি। 

 

আমি এটা সাধারণত ইমেজ প্রসেসিং ভিডিও টুকটাক ভিডিও এডিটিং এবং মাঝে মাঝে গেমও খেলার কাজেও ব্যবহার করি। এর দূর্দান্ত ইমেজ কোয়ালিটি সহ 1080p ডিসপ্লে আপনাকে দারুণ অনুভূতি দিবে ব্যবহারের সময়। 

 

বিভিন্ন ইন্টারনেট মনিটরের বেঞ্চমার্কে এটি খুব চমৎকারভাবে পারফর্ম করেছে। সব মিলিয়ে, কালার ডিস্ট্যান্ট, গ্র্যাডিয়েন্ট, গামা, রেসপন্স টাইমগুলো মনিটরটির ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী চলছিলো। 

 

মনিটরটির সেটিংস মনিটরটির নিচে মাঝে একটি জয়স্টিক এর মত একটি বাটন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আপনি এটাতে প্রেস করে আপনি সেটিং অপশনে যেতে পারবেন, এবং যে অপশন সিলেক্ট করতে চান সেদিকে গিয়ে প্রেস করতে হবে তখনই  সেই মেনুটিই ওপেন হবে। আপনি এর মাধ্যমে কালার অ্যাডজাস্ট করতে পারবেন, ইনপুট মেথড পরিবর্তন করতে পারবেন। 

 

তবে একটি স্প্লিট স্ক্রীনে একই সমযে দুটি ভিন্ন ইনপুটও ব্যবহার করা সম্ভবনা। সেটিংস এর মাধ্যমে আপনি আপনার মনিটরের মডেল ও এর তথ্য এবং রিসেট অপশনও খুজে পাবেন। আপনি চাইলে ভাষা পরিবর্তনসহ অনেক ধরনের পরিবর্তন করতে পারেন। 

 

পিকচার মেনু থেকে আপনি পিকচারের মোড পরিবর্তন করতে পারবেন, এর আরোও অনেক সাবমেনু আছে যেমন: পিকচার অ্যাডজাস্ট, গেম অ্যাডজাস্ট, কালার অ্যাডজাস্ট, কনফিগার অ্যাডজাস্ট, রেজুলেশন, এবং পিকচার রিসেট অপশন। 

 

LG 22mk600m Monitor এর সুবিধাসমূহ

 

  • মনিটরটির সেটিংস সর্বাধিক কাস্টমাইজযোগ্যতা প্রদান করে, ফলে আপনি চাইলে নিজের মত করে কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন

  • বেটার কালার অ্যাকুরেসি

  • ভালো মানের কালার কন্ট্রাস্ট

  • চমৎকার ইমেজ কোয়ালিটি

  • ভ্যালু ফর মানি।

 

LG 22mk600m Monitor এর অসুবিধাসমূহ

 

  • মনিটরটির রিফ্রেশ রেট ৭৫হার্জ, এটি আরো ভালো করা যেত

  • গুণগতমানের নিশ্চয়তা

  • সেটিংস এর সব কাজের জন্য মাত্র একটি বাটনই রয়েছে

  • মনিটরের বিল্ড কোয়ালিটি মাঝামাঝি ধরনের।

 

সর্বশেষ

বলা যায় LG 22mk600m Monitor টি দামের সাথে তুলনা করলে অনেক ভালো। এই দামের ক্ষেত্রে আপনি একক প্লেয়ার গেম এবং ভিডিও এডিটিং এর জন্য এর চেয়ে ভালো পাবেন না। 

 

আশা করি আপনি LG 22mk600m Monitor সম্পর্কে একটা আইডিয়া পেয়েছেন।


যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো আপনাকে সহোযোগিতা করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *